ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমঝুপি বিএডিসি খামার এখন ফুল প্রেমীদের দখলে

বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ কামাল হোসেন খান
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ কামাল হোসেন খান

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি বিএডিসির ডাল ও সব্জি বীজ খামারটি বিনােদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
খামারে চাষকৃত সূর্ষমুখি ফুল দেখতে এখন নিত্যদিন ভিড় করছেন হাজারো ফুল প্রেমীরা। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই সূর্যমূখী এই ফুলের উঁকি মারার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমী ও তরুণ-তরুনীরা। দল বেঁধে বন্ধু-বান্ধবী কেউ বা পরিবার পরিজন নিয়ে সূর্যমূখী ফুলের বাগানে সেলফি বা ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সূর্যমুখি ফুল দেখতে আসা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের যুবক সজিব হােসেন বলেন,বন্ধুদের মুখে শুনে এই খামারে এসে বড্ডু বিনােদন পেলাম। কারণ সূর্যমুখি ফুলের উঁকি মারার দৃশ্য দেখে মণ প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে। এই বিনােদন কেন্দ্রে আসা কলেজ ছাত্রী প্রিয়া বলেন,এতাে সুন্দর মনােরম দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে এখানেই থেকে যায়।

সরোজমিন খামারে গিয়ে খামার কর্তপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছর জুড়ে নানা ধরণের ডাল ও সবজির বীজ উৎপাদন হয়ে আসছে আমঝুপি বিএডিসির এই খামারে। উদ্দশ্যে সূর্যমূখীর তেল ও বীজের চাহিদা পূরণের জন্য এই চাষের উদ্দ্যোগ। কয়েক বছরে সোস্যাল মিডিয়ার বদৌলতে কৃষি খামার ফুল প্রেমিদের পদচারণায় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মেহেরপুরের আশপাশের কয়েক জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন এই সূর্ষমুখি বাগানে। দু’চোখ যতদূর যায় শুধু ফুলের সমারাহ, এ যেন হলুদ আর সবুজের মিলন মেলা। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার। ফুলের এই আমন্ত্রণে দিনভর এই সূর্যমুখী বাগানে ভিড় করছেন কয়েক হাজার মানুষ। দুপুরের পর থেকেই সূর্যমুখী বাগান নানান বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সূর্যমুখী ফুলের এ বাগানটি এখন সৌন্দর্য প্রেমীদের কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সূর্যের মতো হাঁসি দেওয়া হলুদ গালিচা ছড়ানো ফুলের সৌন্দয্যে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিন বাগানে ভিড় করছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। কেউ আবার প্রিয় মুহূর্তকে মোবাইলফোনের ভিডিওতে স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে রাখছেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে ফুলের সৌন্দর্য আর সৌরভ গ্রহণ করে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন বিনোদন প্রিয় পর্যটকেরা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আসছেন, কেউ বা আসছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। শুধু মেহেরপুর জেলার মানুষই এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন না আশেপাশের জেলা থেকেও আসছে দর্শনার্থী। ফুলের সৌরভ উপভোগ করে খুশি দর্শনার্থীরা।

খামারের উপ-সহকারী পরিচালক আবু তাহের সরদার জানান, গত কয়েক বছর ধরে এই বীজ খামারে সুর্য্যমুখির বীজ তৈরীর জন্য আবাদ করা হয়। যখন ফুল ফোটে তখন দর্শনার্থীরা ভীড় করে। দর্শনার্থীরা যাতে ফুলের ক্ষতি না করে তার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে। তবে দর্শনার্থীরা ফুল দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে সূর্ষমূখি চাষে।

তিনি আরো জানান, সূর্যমুখী একধরণের একবর্ষী ফুলগাছ। সূর্যমুখী গাছ লম্বায় ৩ মিটার (৯.৮ ফু) হয়ে থাকে, ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্য্যরে মত এবং সূর্য্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এর এরূপ নামকরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আমঝুপি বিএডিসি খামার এখন ফুল প্রেমীদের দখলে

আপডেট সময় : ০৫:২১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ কামাল হোসেন খান

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি বিএডিসির ডাল ও সব্জি বীজ খামারটি বিনােদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
খামারে চাষকৃত সূর্ষমুখি ফুল দেখতে এখন নিত্যদিন ভিড় করছেন হাজারো ফুল প্রেমীরা। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই সূর্যমূখী এই ফুলের উঁকি মারার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমী ও তরুণ-তরুনীরা। দল বেঁধে বন্ধু-বান্ধবী কেউ বা পরিবার পরিজন নিয়ে সূর্যমূখী ফুলের বাগানে সেলফি বা ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সূর্যমুখি ফুল দেখতে আসা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের যুবক সজিব হােসেন বলেন,বন্ধুদের মুখে শুনে এই খামারে এসে বড্ডু বিনােদন পেলাম। কারণ সূর্যমুখি ফুলের উঁকি মারার দৃশ্য দেখে মণ প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে। এই বিনােদন কেন্দ্রে আসা কলেজ ছাত্রী প্রিয়া বলেন,এতাে সুন্দর মনােরম দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে এখানেই থেকে যায়।

সরোজমিন খামারে গিয়ে খামার কর্তপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছর জুড়ে নানা ধরণের ডাল ও সবজির বীজ উৎপাদন হয়ে আসছে আমঝুপি বিএডিসির এই খামারে। উদ্দশ্যে সূর্যমূখীর তেল ও বীজের চাহিদা পূরণের জন্য এই চাষের উদ্দ্যোগ। কয়েক বছরে সোস্যাল মিডিয়ার বদৌলতে কৃষি খামার ফুল প্রেমিদের পদচারণায় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মেহেরপুরের আশপাশের কয়েক জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন এই সূর্ষমুখি বাগানে। দু’চোখ যতদূর যায় শুধু ফুলের সমারাহ, এ যেন হলুদ আর সবুজের মিলন মেলা। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার। ফুলের এই আমন্ত্রণে দিনভর এই সূর্যমুখী বাগানে ভিড় করছেন কয়েক হাজার মানুষ। দুপুরের পর থেকেই সূর্যমুখী বাগান নানান বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সূর্যমুখী ফুলের এ বাগানটি এখন সৌন্দর্য প্রেমীদের কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সূর্যের মতো হাঁসি দেওয়া হলুদ গালিচা ছড়ানো ফুলের সৌন্দয্যে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিন বাগানে ভিড় করছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। কেউ আবার প্রিয় মুহূর্তকে মোবাইলফোনের ভিডিওতে স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে রাখছেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে ফুলের সৌন্দর্য আর সৌরভ গ্রহণ করে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন বিনোদন প্রিয় পর্যটকেরা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আসছেন, কেউ বা আসছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। শুধু মেহেরপুর জেলার মানুষই এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন না আশেপাশের জেলা থেকেও আসছে দর্শনার্থী। ফুলের সৌরভ উপভোগ করে খুশি দর্শনার্থীরা।

খামারের উপ-সহকারী পরিচালক আবু তাহের সরদার জানান, গত কয়েক বছর ধরে এই বীজ খামারে সুর্য্যমুখির বীজ তৈরীর জন্য আবাদ করা হয়। যখন ফুল ফোটে তখন দর্শনার্থীরা ভীড় করে। দর্শনার্থীরা যাতে ফুলের ক্ষতি না করে তার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে। তবে দর্শনার্থীরা ফুল দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে সূর্ষমূখি চাষে।

তিনি আরো জানান, সূর্যমুখী একধরণের একবর্ষী ফুলগাছ। সূর্যমুখী গাছ লম্বায় ৩ মিটার (৯.৮ ফু) হয়ে থাকে, ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্য্যরে মত এবং সূর্য্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এর এরূপ নামকরণ।