1. admin@meherpurpress.com : admin :
ডিপিএড প্রশিক্ষণের পর উচ্চতর গ্রেড চাকুরি শিক্ষকদের জীবনের অভিশাপ - মেহেরপুর প্রেস
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মেহেরপুর পৌর কবরস্থান জামে মসজিদের সংস্কার কাজের উদ্বোধন উদ্বোধন মেহেরপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাহারবাটি ইউনিয়নের ৩৬ জন পেলো সেলাই মেশিন মেহেরপুর ইম্প্যাক্ট নার্সিং ইনস্টিটিউটে ফুড ফেয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিগুলো মুজিবনগরে তুলে ধরা হবে–জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুর থানা পুলিশের অভিযানে ০৪ গ্রাম হেরোইনসহ আটক ০১ ২৪ ঘন্টায় মেহেরপুরে করোনায় আক্রান্ত ১ মোনাখালী কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত মেহেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ মিনা আটক গ্রাম পুলিশের নেতৃবৃন্দের সাথে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সৌজন্য সাক্ষাৎ মেহেরপুর গড়ের মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ

ডিপিএড প্রশিক্ষণের পর উচ্চতর গ্রেড চাকুরি শিক্ষকদের জীবনের অভিশাপ

মিজানুর রহমান জনি
  • Update Time : বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ২১৮ Time View

“ডিপিএড প্রশিক্ষণের পর উচ্চতর গ্রেড চাকুরি শিক্ষকের জীবনের অভিশাপ।”
মেহেরপুর প্রতিনিধি-
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার মানোন্নয়নে সুদীর্ঘকাল সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন (সি-ইন-এড) প্রশিক্ষণ চালু ছিল।সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শিখন চাহিদার পরিবর্তনের জন্য শিক্ষক উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়ে।প্রচলিত সি-ইন-এড কোর্সটিকে পরিবর্তন করে ২০১১ সালে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।পরীক্ষামুলকভাবে ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে ৭টি পিটিআইতে ডিপিএড কোর্সটি চালু করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের জুলাই মাস থেকে ২৯টি, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৩৬ টি, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৫০ টি, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৬০ টি, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৬৬ টি, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৬৭ টি পিটিআইতে ডিপিএড কোর্সটি সম্প্রসারণ করা হয়। শিক্ষকগণ ১৮ মাস ব্যাপি ৯৬ ক্রেডিট ঘন্টা কঠোর পরিশ্রম করে ৭ টি বিষয় অধ্যয়ন শেষে সর্বমোট ১৩০০ নম্বরের কোর্স মূল্যায়নে অংশগ্রহণ পূর্বক নির্ধারিত ২৩টি শিক্ষকমান অর্জন করে এবং নিজেদের মানসম্মত, দক্ষ শিক্ষক হিসাবে গড়ে তুলেন।উক্ত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষকগণ সরকারকে মানসম্মত শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে যাচ্ছেন। উক্ত কোর্স সম্পন্ন করার পর শিক্ষকগণকে উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রদান করার বিধান রয়েছ।সে বিধান অনুসারে একজন প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের তুলনায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকের বেতন বেশি পাওয়ার কথা।কিন্তু বাস্তবে ঘটছে এর বিপরীত ঘটনা।প্রশিক্ষণের পর উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করলে প্রশিক্ষণের পুর্বে আহরিত বেতনের থেকে প্রশিক্ষণের পর আহরিত বেতন কমে যাচ্ছে।এর কারণ অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, বিএসআর পার্ট-১ এর ধারা-৪২ (i) (ii) অনুযায়ী কোন পদের স্কেল উন্নীত করা হলে বর্তমান স্কেলের মূল বেতনের সমমানের ধাপ উন্নীত স্কেলে না থাকলে তুলনামূলক নিম্নধাপে মূল বেতন নির্ধারণ করে অবশিষ্ট পার্থক্য টাকা ব্যক্তিগত বেতন (পিপি) হিসাবে প্রাপ্য হবেন। যা পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির তারিখে সমন্বয় করতে হবে। কিন্তু ২০১৫ সালের পে স্কেলের পর ব্যক্তিগত বেতন (পিপি) পরবর্তী বছর সমন্বয় করার সুযোগ না থাকায় বেতন কমে যায়।কারণ পরবর্তী বছর পিপি থাকবে না। আবার প্রশিক্ষণ গ্রহণের সময়ের পার্থক্যের কারণে বেতন কম হওয়ার পার্থক্য রয়েছে।অর্থ্যাৎ এক সাথে যোগদান করার পর যিনি আগে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন তার তুলনায় যিনি পরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন তার বেতন কমে যাবার পরিমাণটা বেশি।কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ডিপাটর্মেন্ট একসাথে যোগদানকারি শিক্ষকগণকে একই শিক্ষাবর্ষে ডেপুটেশন প্রদান করতে পারেন না। ডিপার্টমেন্টের এ ব্যর্থতার কারণে যেসব শিক্ষক তুলনামূলক পরে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান তাদের বেতন তত বেশিমাত্রায় কমে যায়। যা শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশার জন্ম দিচ্ছে।যেমনঃ ২০১৩ সালে যোগদানকারি একজন শিক্ষক চাকুরিতে প্রবেশের পর বিএড পাশের সার্টিফিকেট সংযুক্ত করে উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করেছেন।২০২০ সালে তার মুল বেতন ১৫১৯০টাকা। কিন্তু তিনি চাকুরির আবেদনে বিএড যোগ্যতার উল্লেখ করেছিলেন না।একই সাথে যোগদান করে অপর একজন শিক্ষক ২০১৪ সালে সি-ইন-এড সম্পন্ন করে উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন। ২০২০ সালে তার মুল বেতন ১৪৪০০ টাকা। আরেকজন একই সাথে যোগদান করে ২০১৬ সালে ডিপিএড সম্পন্ন করে উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন।২০২০ সালে তার মুল বেতন ১৩৭১০ টাকা। আরেকজন একই সাথে যোগদান করে ২০১৭ সালে ডিপিএড সম্পন্ন করে উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন।২০২০ সালে তার মুল বেতন ১৩০৫০ টাকা। কিন্তু একই সাথে যোগদান করে যিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেও সার্টিফিকেট সংযুক্ত করেননি ২০২০ সালে তার মুল বেতন ১৪৪০০ টাকা।আবার ২০২০ সাল থেকে প্রশিক্ষণ শেষে উচ্চতর গ্রেড পাবার বিধান না থাকায় এবং সকলকে ১৩ তম গ্রেড প্রদান করায় ২০২০ সাল থেকে আর কারো বেতন কম হবে না।ফলে জুনিয়র শিক্ষকরা সিনিয়র শিক্ষকদের চেয়ে বেশি বেতন পাবেন। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যেসকল শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন তারা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।চাকুরি জীবনে তাদের এই ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকায় দাঁড়াবে।যা তাদের চাকুরি জীবনের একটি বিরাট অভিশাপ। অপর দিকে প্রশিক্ষণ শেষ করে সার্টিফিকেট পেয়ে সংযুক্ত করতে প্রায় দুই তিন বছর সময় লেগে যায়।ডিপিএড পাশের তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড কার্যকর হওয়ায় উক্ত দুই তিন বছরে নিয়ম সিদ্ধভাবে আহরিত বেতনভাতার কিছু অংশ ওভার ড্র হিসেবে পরিগণিত হয়।যা শিক্ষকগণকে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত গৃহীত টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে একযোগে ৮ হাজার থেকে ৩৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে জমা দিতে হচ্ছে। যা একজন শিক্ষকের পক্ষে অত্যান্ত কষ্টদায়ক। কর্তৃপক্ষের বিষয়টি সুরাহা করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের মনোঃকষ্ট দুর করা উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© মেহেরপুর প্রেস কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। নির্মাণ করেছেনঃ WooHostBD
Theme Customized BY LatestNews